"সংস্কৃত ছন্দ"

 সংস্কৃত ছন্দ:

ছন্দ কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল।ভারতবর্ষে ছন্দচর্চার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। সুদূর অতীতে বৈদিক ভাষা ও সাহিত্য (খ্রি.পূ ২৫০০-৯০০ অব্দ) চর্চার সময়কাল থেকেই ভারতবর্ষে কাব্যের প্রধান উপাদানরূপে ছন্দের চর্চা হয়ে আসছে।

ধ্রুপদী সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচয়িতা বাল্মীকিকে আদি কবি এবং তাঁর কাব্যে ব্যবহূত ছন্দকে আদি ছন্দ বলেও একটা কথা প্রচলিত আছে। একদিন ব্যাধের শরে ক্রৌঞ্চমিথুনের ক্রৌঞ্চ নিহত হলে ক্রৌঞ্চী আর্তস্বরে বিলাপ করছিল। তা শুনে বাল্মীকির বেদনার্ত হূদয় থেকে উচ্চারিত হয়-

“মা নিষাদ প্রতিষ্টাং ত্বমগমঃ শ্বাশ্বতীঃ সমাঃ।
যৎক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধী কামমোহিতম্”।।

এই সকরুণ অভিশাপোক্তিই আদি ছন্দ হিসেবে পরিচিত।


বৈয়াকরণদের মতে, আহ্্লাদর্থক চুরাদিগণীয় চন্দ্- ধাতু থেকে ছন্দ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। ৶চন্দ্+অসুন্=ছন্দঃ।

সংস্কৃত ছান্দসিকগণ ছন্দকে প্রধানত দুই ভাগে বিভাজিত করেছেন-
১। বৃত্ত ছন্দ ও
২। মাত্রা বা জাতি ছন্দ।

সংস্কৃত ছন্দ নির্ণয় করা হয় ‘গণ’ এর মাধ্যমে। সংস্কৃত ছন্দে ১০ টি গণ রয়েছে। এই গণগুলো হ্রস্ব বা লঘু ও দীর্ঘ বা গুরু বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।সাধারণত লঘু বর্ণ বোঝাতে (৺) এরকম অর্ধচন্দ্র চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এবং গুরু বর্ণ বোঝাতে(-) এরকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।চিহ্নসহ গণগুলো হলো-

ম= ---(তিনটিই গুরু বর্ণ)
ন= ৺৺৺ (তিনটিই লঘু বর্ণ)
ভ= -৺৺ (প্রথমটি গুরু অন্যদুটি লঘু)
য= ৺--(প্রথমটি লঘু অন্যদুটি গুরু)
জ= ৺-৺ (মধ্যে গুরু বাকি দুটি লঘু)
র= -৺- ( মধ্যে লঘু বাকি দুটি গুরু)
স= ৺৺- ( শেষেরটি গুরু বাকি দুটি লঘু)
ত= --৺ ( শেষেরটি লঘু বাকি দুটি গুরু)
গ= - (একটি গুরু বর্ণ)
ল= ( একটি লঘু বর্ণ)

গুরুত্বপুর্ণ সংস্কৃত ছন্দগুলো হলো- মন্দ্রাকান্তা, মাণবক, বিদ্যুণ্মালা, ইন্দ্রবজ্রা, ভ্রমরবিলাসিতা, রথোদ্ধতা, বংশস্থবিল, শার্দুলবিক্রীড়িত প্রভৃতি।

👫 শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।
আপনার মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায়।
নিজে জানুন অন্যকে জানান।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"সংস্কৃত ভাষা শেখার জন্য সহায়ক কয়েকটি বই"

"সংস্কৃতে কথা বলার হাতে-খড়ি" পর্ব-১

”যে বইটি দিয়ে সংস্কৃত শেখা শুরু করবেন (pdf সহ)“