"সংস্কৃত ভাষার উৎস সন্ধান"
কাল ও বিষয়গত দিক থেকে সংস্কৃত ভাষার দুটি স্তর: বৈদিক ও লৌকিক। এই লৌকিক ভাষাই ধ্রুপদী সংস্কৃত ভাষা নামে পরিচিত। এদুটি ভাষার প্রধান পার্থক্য স্বরবৈচিত্র্যে। বৈদিক স্বরধ্বনিতে উদাত্ত, অনুদাত্ত ও স্বরিতভেদে উচ্চারণের তিনটি পর্যায় রয়েছে, কিন্তু সংস্কৃতে এ নিয়ম মানা হয় না। পাণিনিকৃত অষ্টাধ্যায়ী সংস্কৃত ভাষার প্রধান ব্যাকরণগ্রন্থ। পরবর্তীকালে বার্ত্তিককার বররুচি (বা কাত্যায়ন) এবং ভাষ্যকার পতঞ্জলির মাধ্যমে অষ্টাধ্যায়ী পূর্ণতা লাভ করে। তাই এর এক নাম হয় ত্রিমুনিব্যাকরণ। অষ্টাধ্যায়ীতে যেসব অনুশাসন লিপিবদ্ধ হয়েছে, সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের অনুশীলনে সেসবই অনুসরণ করা হয়।
সংস্কৃত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় উপশাখার একটি ভাষা। ভাষাতাত্ত্বিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাসমূহকে দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে: সতম্ ও কেন্তুম্। সংস্কৃত সতম্ শাখার অন্তর্গত। গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষার সঙ্গে এর বিস্ময়কর সাদৃশ্য রয়েছে। এ কারণে এ ভাষাগুলির উৎস এক বলে মনে করা হয়, যা মূল আর্যভাষা বা মূল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা নামে পরিচিত।
সংস্কৃত ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। যে অঞ্চলে এর চর্চা হয়েছে সেই অঞ্চলে প্রচলিত বর্ণমালাই এতে গৃহীত হয়েছে। তবে নাগরী বা দেবনাগরী বর্ণমালা সংস্কৃতের জন্য ব্যাপকভাবে গৃহীত, বোধ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
সংস্কৃত প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা নামেও পরিচিত।
আর্যভাষা তিনটি স্তরে বিভাজিত:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা- বৈদিক ও সংস্কৃত;
মধ্যভারতীয় আর্যভাষা- পালি, প্রাকৃত ও অপভ্রংশ এবং
নব্যভারতীয় আর্যভাষা- বাংলা, উড়িয়া, হিন্দি, মারাঠি ইত্যাদি।
প্রথম দিকে সংস্কৃত ভাষা চর্চার ভৌগোলিক সীমা ছিল ভারতের উত্তরাংশ; কালক্রমে তা পশ্চিম ও পূর্বভারতে বিস্তার লাভ করে। ধীরে ধীরে সংস্কৃতের চর্চা ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী দ্রাবিড়, অস্ট্রিক ও সিনো-টিবেটান জাতির মধ্যেও। ভারতবর্ষের প্রতিবেশী দেশ চীন, তিববত, সুমাত্রা, বোর্নিও এবং পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশগুলিতেও এর প্রভাব বিস্তারিত হয়। প্রাচীন ভারতের ধর্ম-দর্শন ও সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে সংস্কৃত ভাষা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নব্যভারতীয় আর্যভাষাসমূহের গঠনপ্রকৃতি বিশ্লেষণ ও উৎসসন্ধানে সংস্কৃত একান্ত প্রয়োজনীয়।
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুন