"সংস্কৃত বর্ণমালার সংখ্যা ও বাংলা বর্ণমালার সাথে সংস্কৃত বর্ণমালার পার্থক্য"
> সংস্কৃত স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা কত?
> বাংলা বর্ণমালার সাথে সংস্কৃত বর্ণমালার পার্থক্য কী?
প্রথমত, সংস্কৃত স্বরবর্ণ ১৩ টি। যথা - অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, দীর্ঘ ঋ, ৯, এ, ঐ, ও, ঔ।
দ্বিতীয়ত, বৈয়াকরণেরা অ, ই, উ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ এই আটটিকে প্লুত স্বর নামে আর আটটি স্বতন্ত্র স্বরবর্ণ বলে মনে করেন। এই আটটিকে স্বতন্ত্র প্লুত স্বর হিসেবে গ্রহণ করলে স্বরবর্ণের সংখ্যা দাঁড়ায় (১৩+৮) ২১টি।
তৃতীয়ত, কেউ কেউ মনে করেন প্লুত ৯ স্বর আছে, এই প্লুত ৯ স্বর সহ স্বরবর্ণ হয় (২১+১) ২২টি।
চতুর্থত, কেউ কেউ মনে করেন দীর্ঘ ঋ কারের ন্যায় দীর্ঘ ৯ কার আছে, এই দীর্ঘ ৯কার সহ স্বরবর্ণ হয় (২২+১) ২৩টি।
অর্থাৎ মোট সংস্কৃত স্বরবর্ণ ২৩টি।
বি. দ্র. হ্রস্বস্বরের একটি মাত্রা, দীর্ঘস্বরের দুইটি মাত্রা এবং প্লুত স্বরের তিনটি মাত্রা থাকে।
ব্যঞ্জনবর্ণ:
প্রথমত, সংস্কৃত ব্যঞ্জন বর্ণের সংখ্যা ৩৫টি। যথা-
ক খ গ ঘ ঙ, চ ছ জ ঝ ঞ, ট ঠ ড ঢ ণ, ত থ দ ধ ন, প ফ ব ভ ম, য র ল ব, শ ষ স হ, ং ঃ।
দ্বিতীয়ত, কেউ কেউ মনে করেন বিসর্গের আরও দুইটি রূপ আছে। যথা
১। জিহ্বামূলীয় ( ক ও খ এর পূর্ববর্তী অর্দ্ধবিসর্গ)
২। উপধ্যানীয় ( প ও ফ এর পূর্ববর্তী অর্ধবিসর্গ)
এই দুই বিসর্গ সহ ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা হয় (৩৫+২) ৩৭টি।
তৃতীয়ত, কেউ কেউ ৯ কারকে ব্যঞ্জন বর্ণ মনে করেন। এটি সহ মোট ব্যঞ্জন বর্ণ হয় (৩৭+১) ৩৮টি।
চতুর্থত, যম নামে আরও চারটি ব্যঞ্জনের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু এদের লৌকিক ব্যবহার নেই। এই চারটিসহ মোট ব্যঞ্জন বর্ণ হয় (৩৮+৪) ৪২টি।
এভাবে ২৩ স্বর ও ৪২ ব্যঞ্জন মিলে মোট ৬৫ বর্ণের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে ১৩ স্বর ও ৩৫ ব্যঞ্জন বর্তমানে ব্যবহৃত হয়।
বাংলার সাথে পার্থক্য -
১। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি। কিন্তু সংস্কৃতে ১৩ টি। সংস্কৃতে অতিরিক্ত দুইটি স্বর হচ্ছে দীর্ঘ ঋ এবং ৯। এছাড়া বাংলায় প্লুত স্বর নেই।
২। বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনের সংখ্যা ৩৯টি। কিন্তু সংস্কৃতে ৩৫টি। বাংলায় অতিরিক্ত যে বর্ণগুলো ব্যবহৃত হয় সেগুলো হলো- ড় ঢ় য় ৎ ঁ । সংস্কৃতে দুইটি ব ব্যবহৃত হয় যেখানে বাংলা বর্ণমালায় একটি 'ব' দেখা যায়।।
তথ্যসূত্র -
১। সমগ্র ব্যাকরণ কৌমুদী
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুনঃ সংস্কৃত ভাষা

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন