"সংস্কৃত ব্যাকরণের কিছু পরিভাষা"
সংস্কৃত ব্যাকরণের কিছু পরিভাষা নিচে দেওয়া হলঃ
ধাতু: যে প্রকৃতি দ্বারা ক্রিয়া বুঝায়, তাকে ধাতু বলে। যথাঃ ভূ, গম্, দৃশ্, হন্ ইত্যাদি।
প্রাতিপদিক: ক্রিয়াবাচক ভিন্ন অন্য প্রকৃতিকে নাম বা প্রাতিপদিক(nominal stem) বলে। যথাঃ জল, মন্দ, নদী ইত্যাদি।
প্রত্যয়: ধাতু ও প্রাতিপদিকের উত্তর যা যুক্ত হয়, তাকে প্রত্যয়(suffix) বলে। যথাঃ তি, সু, তুমুন্ ইত্যাদি।
বিভক্তি: ধাতুর উত্তর তি, তস্, অন্তি প্রভূতি এবং প্রাতিপদিকের উত্তর সু, ঔ, জস্ প্রভূতি যে সমস্ত প্রত্যয় হয়, তাদেরকে বিভক্তি(inflections) বলে। যথাঃ ভূ+তি=ভবতি, নর+সু=নরঃ ইত্যাদি।
বৃদ্ধি: স্বরের বৃদ্ধি বলতে বোঝায় যে, অ-স্থানে আ; ই-ঈ-এ স্থানে ঐ; উ-ঊ-ও স্থানে ঔ; ঋ-ঋৃ-স্থানে আর্; ৯ স্থানে আল্ হয়। যথাঃ শরীর+ঠক্= শারীরিক।
গুণ: অ-কার, এ-কার এবং ও-কার গুণ সংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়। যেমন; কৃ+তা= কর্তা।
ইৎ: কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে যে বর্ণ উচ্চারিত হয় কিন্তু কার্যকালে থাকে না, তার নাম ইৎ(indicatory letter)। যেমন; অনট্ প্রত্যয়ের ‘ট্’।
সবর্ণ: যে সকল বর্ণের উচ্চারণ স্থান এক এবং যাদের উচ্চারণে সমান প্রযত্নের প্রয়োজন, তারা পরস্পর সবর্ণ(homogeneous letter)। যেমন; অ-আ; ই-ঈ; উ-ঊ; ক-খ-গ-ঘ প্রভূতি এরা পরস্পর স্ববর্ণ।
টি: শব্দের অন্ত্য স্বরকে আদি করে যে সকল বর্ণ, তাদেরকে টি বলে। যেমন; রাজন্ শব্দের অন্তস্বর ‘অ’ এবং তারপরে ‘ন্’, সুতরাং এখানে ‘অন্’ এই অংশটুকুই টি।
উপধা: অন্ত্য বর্ণের পূর্ব বর্ণকে উপধা(penultimate) বলে। যেমন; রাম শব্দের অন্ত্যবর্ণ ‘অ’ এবং উপধা হল ‘ম্’। এখানে এই 'ম্' ই হল উপধা।
বিভাষা: হতেও পারে ,নাও হতে পারে, অথবা যে কোনটি হতে পারে এরূপ বিধান বোঝালে তাকে বিভাষা বলে। একে বিকল্পও বলা যায় এবং অনেক স্থলে পাণিনি ব্যাকরণে ‘বা’, ‘অথবা’, ‘অন্যতরস্যাম্’ এ কথাগুলোর দ্বারা এর নির্দেশ হয়। যেমন; গবাং গোষু বা স্বামী।
নিত্য: ব্যাকরণের যে সকল বিধানে বিকল্প নাই, তাদেরকে নিত্য(compulsory) বলে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন