"সংস্কৃতে কথা বলার হাতে-খড়ি" পর্ব-৩

পর্ব-৩

লিঙ্গ:
পুংলিঙ্গ শব্দ:
সংস্কৃতে লিঙ্গ নির্ধারণ একটি জঠিল বিষয়। শুধুমাত্র অর্থ দ্বারা সংস্কৃতে লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায় না। প্রত্যয় ও শিষ্ট প্রয়োগ দ্বারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিঙ্গ নির্ণীত হয়। যেমন 'দারঃ' শব্দটির অর্থ হচ্ছে 'স্ত্রী' কিন্তু এটি সংস্কৃতে পুংলিঙ্গ শব্দ।
সংস্কৃত ভাষায় লিঙ্গ বিষয়টি যেমন জঠিল তেমনি গুরুত্বপূর্ণ কেননা সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ্যের যে লিঙ্গ, বচন ও বিভক্তি বিশেষণ পদেরও সেই লিঙ্গ, বচন ও বিভক্তি হয়। যেমন-
১। সুন্দরঃ বালকঃ(পুং)।
২। সুন্দরী বালিকা (স্ত্রী)।
৩। সুন্দরম্ পুষ্পম্ (ক্লীব)।
উপড়ের উদাহরণে দেখতে পাচ্ছেন একই "সুন্দর" শব্দটি তিনটি লিঙ্গভেদে (সংস্কৃতে লিঙ্গ তিন প্রকার) তিনটি ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। কাজেই বুঝতেই পারছেন সংস্কৃতে লিঙ্গ নির্ধারণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।



সংস্কৃতে লিঙ্গ তিন প্রকার। যথা-
১। পুং লিঙ্গ
২। স্ত্রী লিঙ্গ
৩। ক্লীব লিঙ্গ
আজকে শুধু পুং লিঙ্গের কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করব।
সংস্কৃতে সাধারণত অ-কারান্ত শব্দগুলো পুংলিঙ্গ হয়ে থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। তবে সব অ-কারান্ত শব্দকেই পুংলিঙ্গ ভাবা যাবে না। নিম্নে পুংলিঙ্গ বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আলোচনা করা হলঃ-
১. "পুংস্ত্বে সভেদানুচরাঃ সপর্য্যায়াঃ সুরাসুরাঃ।
স্বর্গযাগাদ্রিমেঘাব্ধিদ্রুকালাসিশরারয়ঃ।
করগণ্ডৌষ্ঠদোর্দ্দন্তকণ্ঠকেশনখস্তনাঃ।।"
- (অমরকোষ)
ব্যাকরণ-কৌমুদী, ৬৯২ পৃষ্ঠা, ৫নং সূত্র।
এর অর্থ হচ্ছে, সুর, অসুর, স্বর্গ, যজ্ঞ, পর্বত, মেঘ, সাগর, বৃক্ষ, সময়, তরবারি, বাণ, অরি, হস্ত, গণ্ড, ওষ্ঠ, বাহু, কণ্ঠ, কেশ, নখ, স্তন - বাচক শব্দ পুংলিঙ্গ হয়। যথা-
সুরঃ- দেব, অমর, বিবুধ, ত্রিদশ।
অসুরঃ- দৈত্য, দানব, দনুজ।
স্বর্গঃ- সুরলোক, নাক, ত্রিদিব।
যজ্ঞঃ- যাগ, অধ্বর, মখ, ক্রতু।
পর্বতঃ- ভূধর, অদ্রি, শৈল, অচল, গিরি।
মেঘঃ- বারিবহ, পর্জন্য, বারিদ, জলধর।
সাগরঃ- সমুদ্র, পাথার, পারাবার, অর্ণব, সিন্ধু।
বৃক্ষঃ- মহীরুহ, তরু, পাদপ, বিটপী, শাখী।
সময়ঃ- কাল, ক্ষণ।
অসিঃ- করবাল, খড়গ।
বাণঃ- শর, কাণ্ড, বিশিখ।
শত্রুঃ- অমিত্র, রিপু, সপত্ন, অরি।
হস্তঃ- কর, পাণি।
গণ্ডঃ- কপোল।
ওষ্ঠঃ- অধর, দন্তচ্ছদ।
বাহুঃ- ভুজ।
দন্তঃ- রদ, রদন।
কণ্ঠঃ- গল।
কেশঃ- কচ, শিরোরুহ, কুন্তল।
নখঃ- করজ, কররুহ।
স্তনঃ- পয়োধর, কুচ, উরোজ।
এই শব্দগুলো পুংলিঙ্গ হয়। তবে এদের মধ্যে ইষু(বাণ), বাহু স্ত্রীলিঙ্গ ও পুংলিঙ্গ। অভ্র(মেঘ), ত্রিবিষ্টপ (স্বর্গ) হচ্ছে ক্লীব লিঙ্গ। দিব্ (স্বর্গ) স্ত্রীলিঙ্গ। বাণ, কাণ্ড কোন মতে পুংলিঙ্গ ও ক্লীবলিঙ্গ হয়।
এইসূত্রটি ছাড়াও আরো অনেক সূত্র বইয়ে আছে। আপনারা চাইলে বই থেকে পড়তে পারে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দের পুংলিঙ্গরূপ দেওয়া হলো-
নর(অ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দগুলো সাধারণত নর শব্দরূপের মত হয় কারক ও বচন ভেদে। নর শব্দের রূপ জানতে চাইলে আমাদের "সহজপাঠ" পর্বে দেখে আসুন।), অশ্ব, ইতিহাস, গ্রহ, ছাত্র, পুত্র, বসন্ত, শিক্ষক, শিষ্য, সূর্য, চন্দ্র, যব, গোধূম(গম), সর্ষপ(সরিষা), তিল, গোধূমচূর্ণ(আটা), পটোল, কুষ্মাণ্ড(কুমড়া), পলাণ্ডু(পেঁয়াজ), লশুন(রসুন), চণক(ছোলা), উপস্কর(মশলা), কলায়(মটর), লম্বপটোল(চিচিঙ্গা), দূরভাষ(টেলিফোন), মার্গ(পথ/রাস্তা), গ্রাম, হট্ট(হাট/বাজার), নিবাস(বাসস্থান), আলয়(বাড়ি), চিকিৎসালয়, ভোজনালয়, পত্রালয়, ন্যায়ালয়(কোর্ট), চোল(ব্লাউজ), কোষ(পকেট), প্রাবারক(শাল/কোট), পাদস্যূত(মোজা), কটাহ(কড়াই), কণ্ডোল(ঝুড়ি), নির্যাস(আঠা), অলিন্দ(বারান্দা), মূষিক(ইদুর), মশক(মশা), তল্পকীট(ছাড়পোকা), কুক্কুর(কুকুর), ব্যাঘ্র, ছাগ, বিত্তকোষ(ব্যাংক), বর্গ(ক্লাস), আরক্ষক(পুলিশ), কন্দুক(ফুটবল), করদীপ(টর্চলাইট), আবৃতদীপ(হারিকেন), গবাক্ষ(জানালা)
- সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা। পৃষ্ঠা -৪২,১৯৬,১৯৭।


👫 শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।
আপনার মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায়।
নিজে জানুন অন্যকে জানান।
পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ।🙏

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"সংস্কৃত ভাষা শেখার জন্য সহায়ক কয়েকটি বই"

"সংস্কৃতে কথা বলার হাতে-খড়ি" পর্ব-১

”যে বইটি দিয়ে সংস্কৃত শেখা শুরু করবেন (pdf সহ)“